আজ শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শ জিলহজ, ১৪৪২ হিজরী
আজ শুক্রবার, ৩০ জুলাই, ২০২১, ১৫ শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শ জিলহজ, ১৪৪২ হিজরী

কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে গত বছরের মতো এবার সীমিত আকারে হবে হজ। ফলে সৌদি আরবের বাইরে থেকে গিয়ে এবার হজ করার সুযোগ নেই। সৌদিতে থাকা ১৫০টি দেশের নাগরিকসহ এবারের হজে অংশ নিচ্ছেন ৬০ হাজার মানুষ।

হজ সম্পাদনে এবার মুসল্লিদের ব্যবহার করতে হবে স্মার্ট কার্ড। সৌদির স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে মক্কায় পৌঁছাবেন এবারের হজের অনুমতি প্রাপ্ত হজযাত্রীরা।

মক্কা, আরাফা, মিনা ও মুজদালিফায় চলাচলে হাজিদের জন্য প্রস্তুত ৩ হাজার বাস। থাকছে ৫১টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ৫৯৪ চিকিৎসক ছাড়াও থাকছেন আরও ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী। হাজিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। করোনা ছাড়া অন্যান্য সংক্রমণে ভোগা রোগী আছে কিনা তাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এমনকি হাজিদের খাবারেও রয়েছে ভিন্নতা। আগেভাগেই খাবার প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে হজ। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমদের ক্ষেত্রে জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার আগে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজ করতে ইসলাম ধর্মের পবিত্র দুটি পবিত্র স্থানে যেতেন।

তবে করোনা মহামারির কারণে বড় ধরনের সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়। নিষিদ্ধ করা হয় বিদেশি হজযাত্রীদেরও। তাই গত বছর সীমিত পরিসরে স্থানীয় এবং সৌদি অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের হজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এ বছর একই ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালিত হবে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর মাত্র ৬০ হাজার মানুষ পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন। যারা হজ পালন করবেন তাদের সবাইকে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বয়স ১৮ থেকে ৬৫ বছর। গত বছর মাত্র ১০ হাজার সৌদি নাগরিক এবং বাসিন্দা হজ পালন করার অনুমতি পেয়েছিলেন।

করোনার কারণে এবারও সীমিত সংখ্যক ব্যক্তি হজ পালন করতে পারবে এমন ঘোষণা দেওয়ার পরও লাখ লাখ মানুষ আবেদন করেছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের হজ এবং ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজ পালনের জন্য নির্ধারিত প্লাটফর্মে গত মাসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাড়ে ৪ লাখে বেশি আবেদন পড়ে।

গত পাঁচ বছরে যারা হজ পালন করেননি এ বছর সেসব ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হজ করেননি ৫০ বছর বয়সী বা তার চেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তিদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবার। এমনকি এবারই প্রথমবারের মতো পুরুষ অভিভাবক ছাড়া হজের জন্য নিবন্ধন করার সুযোগ পেয়েছেন সৌদি নারীরা।