আজ শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরী
আজ শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরী

শ্রীলংকাকে পর্যুদস্ত করে বাংলাদেশের স্বস্তির জয়

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলংকা। ব্যাট-বল দুই বিভাগেই টাইগারদের কাছে পর্যুদস্ত হয়ে ৩৩ রানে হেরেছে লংকানরা। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। দীর্ঘদিন পর জয় পাওয়া টাইগারদের জন্য স্বস্তি হয়ে এসেছে।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ২৫৭ রান করেছিল বাংলাদেশ। ২৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলংকা। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা শেষ দিকে চেষ্টা চালালেও ম্যাচ জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২২৪ রানে অল আউট হয় লংকানরা।

শ্রীলংকার হয়ে রান তাড়া করতে নামেন দানুশকা গুনাথিলাকা ও কুশল পেরেরা। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে দুজন। তাসকিনের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে টানা তিন বলে চার হাঁকান গুনাথিলাকা।

তবে পরের ওভারেই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু এনে দেন মিরাজ। কট এন্ড বোল্ডের মাধ্যমে গুনাথিলাকাকে ফেরান তিনি। ১৯ বলে ২১ রান করেন এ লংকান ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে আসেন মুস্তাফিজ। তার করা দ্বিতীয় ডেলিভারি উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন পাথুম নিশাংকা। তবে সোজা আফিফের ক্যাচে পরিণত হন তিনি। এর আগে করেন ৮ রান।

এরপর কুশল মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়ায় মনোযোগ দেন অধিনায়ক পেরেরা। দুজনের জুটি যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার অপেক্ষায়, তখনই আঘাত হানেন সাকিব। তার করা বলের ফ্লাইট বুঝতে না পেরে বল তুলে দেন মেন্ডিস। ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মিরাজ। মেন্ডিস ফেরেন ২৪ রানে।

মিরাজের হাত ধরে চতুর্থ সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। তার করা ডেলিভারিটি কাট করতে চেয়েছিলেন কুশল পেরেরা। কিন্তু মিস করায় সোজা বোল্ড হয়ে যান তিনি। বোল্ড হওয়ার আগে ৩০ রান করেন লংকান অধিনায়ক।

নিজের করা পরবর্তী ওভারের প্রথম বলে আবারো আঘাত হানেন মিরাজ। তাকে সুইপ করতে গিয়ে ৯ রানে বোল্ড হন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। ওয়ানডেতে এটি মিরাজের ৫০তম উইকেট। এরপর আসেন বান্দারাকেও বোল্ড করেন তিনি।

মাত্র ১০২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলংকা। তবে সেখান থেকে দলের হাল ধরেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। প্রথমে দাসুন শানাকাকে নিয়ে ৪৭ ও এরপর ইসুরু উদানাকে নিয়ে ৬২ রানের জুটি গড়েন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে শানাকা ১৪ ও উদানা ২১ রান করেন।

এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়বেন হাসারাঙ্গা। ৩৭ বলে ৪৭ রান প্রয়োজন, এমতাবস্থায় হাসারাঙ্গাকে ফিরিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান সাইফউদ্দিন। সাজঘরে ফেরার আগে ৬০ বলে ৭৪ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন তিনি।

হাসারাঙ্গা সাজঘরে ফেরার পরই বাংলাদেশের জয়ের প্রতীক্ষা শুরু হয়, যার সমাপ্তি ঘটে চামিরা আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী মিরাজ একাই চার উইকেট নেন। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি, সাইফউদ্দিন দুটি ও সাকিব একটি উইকেট শিকার করেন।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার ৫২, মুশফিকুর রহিমের ৮৪ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৫৪ রানে ভর করে ছয় উইকেটে ২৫৭ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। লংকানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ধনঞ্জয় ডি সিলভা।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে একই ভেন্যুতে আগামী ২৫ মে মুখোমুখি হবে দুই দল।