আজ শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১, ৪ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরী
আজ শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১, ৪ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৭ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরী

বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বায়ুদূষণ ভয়ঙ্কর এক গুপ্তঘাতকে পরিণত হয়েছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি পলিসি ইনস্টিটিউট (ইপিআইসি) পরিচালিত এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু দুই থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা আশঙ্কা করছেন, আসছে শীতে বায়ুদূষণের মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে। তাদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভয়ঙ্কর গুপ্তঘাতক হয়ে ওঠা বায়ুদূষণে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।পরিবেশ অধিদফতরের মতে ঢাকার আশপাশসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ইটভাটা। এসব ইটভাটা বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে এসব ইটভাটা। ইটভাটাগুলোতে বেআইনিভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে দূষিত হচ্ছে বায়ু। ছাড়পত্রবিহীন এসব ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে সরকারের সে অর্থে তেমন কোন পদক্ষেপ নেই।বায়ুদূষণের কারণগুলোর মধ্যে ইটভাটার পরই রয়েছে ধুলাবালি। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ভবন। কিন্তু এসব স্থাপনা তৈরির সময় মানা হচ্ছে না ইমারত নির্মাণবিধি। এছাড়া ফুটপাতের উন্নয়ন মেট্রোরেল এবং পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য খোঁড়াখুঁড়ি তো চলছেই। এসব উন্নয়ন প্রত্যাশিত হলেও দেখা যায় কোন কাজই নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় না। ফেলে বায়ু দূষিত হচ্ছে। আবার সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িগুলো ময়লা বহনের সময় না ঢেকেই বহন করে, ফলে বায়ুদূষণ হয়।বায়ুদূষণের পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। ফলে এই সমস্যার সমাধানে একটি সামগ্রিক চিন্তা ও পরিকল্পনা জরুরি। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কোন উদ্যোগ নিতে না পারলে পরিস্থিতি সামনের দিনগুলোতে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। দূষিত বায়ু জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ধূলিকণা মানবদেহের ভেতরে ঢুকে ফুসফুসে গেঁথে থাকে এবং এক নাগাড়ে এসব উপাদানের ভেতর দিয়ে চলাচল করলে হৃদরোগ, হাঁপানি ও ফুসফুসে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকরা বলছেন, বায়ুদূষণ দেশের করোনা পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলতে পারে। বিশেষত বায়ুদূষণের শিকার হয়ে রোগাক্রান্তরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে আরও দুর্বল হতে পারে, এমনকি তাদের মৃত্যুও হতে পারে।বায়ুদূষণ থেকে পরিবেশ এবং মানুষের সুরক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতন হতে হবে। সচেতনতা বাড়াতে হবে। সর্বোপরি বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদফতরকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।