আজ সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব, ১৪৪২ হিজরী
আজ সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১, ১৬ ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব, ১৪৪২ হিজরী

আরো ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, ব্যয় হবে ৩৮৩৩ কোটি টাকা

জাতীয় গ্রীডে আরও ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হতে যাচ্ছে। বেসরকারিখাতের আলাদা ৩টি সংস্থার বিল্ড ওন অপারেট (বিওও) ভিত্তিতে স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

২০ বছর মেয়াদে এ জন্য মোট ব্যয় হবে ৩৮৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা। নেত্রকোনায় স্থাপিত হবে ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র আর আশুগঞ্জে স্থাপিত হবে ৫০ মেগাওয়াটের গ্যাস ভিত্তিক এবং মংলা,বাগেরহাটে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

এ সংক্রান্ত আলাদা ৩টি ক্রয় প্রস্তাবসহ মোট ১৪টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নেত্রকোনা জেলার ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশনের কাছে ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করবে বাংলাদেশের কনসোর্টিয়াম অব প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড,হংকংয়ের রাইজেন এনার্জি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের সেন্টার ফর রিনিউবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড।

সূত্র জানায়, বেসরকারীখাতে নেত্রকোনা জেলার ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশনের নিকটবর্তী স্থানে ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের দরপ্রস্তাব অনুমোদন। প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি -১৯৯৬ এর আওতায় বিওও ভিত্তিতে দেশের ৪টি স্থানে প্রতিটি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে দরপত্রের মাধ্যমে স্পন্সর নির্বাচনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) প্রস্তাবে বিদ্যুৎ বিভাগ হতে সম্মতি দেওয় হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিউবো ৪টি স্থানের জন্য দরপত্র আহবান করলে নেত্রকোনা জেলার ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশনের নিকটবর্তী স্থানের জন্য কোন বিডার দরপত্র দাখিল করেনি। পরবর্তীতে বাবিউবো কর্তৃক উক্ত স্থানের জন্য পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে ৩টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে এরমধ্যে বাংলাদেশের কনসোর্টিয়াম অব প্যারাগন পোল্ট্রি লিমিটেড,হংকংয়ের রাইজেন এনার্জি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের সেন্টার ফর রিনিউবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রস্তাবিত ট্যারিফ অনুমোদন পায়। ২০ বছর মেয়াদে ‘নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে ২০ বছরের জন্য উদ্যোক্তা সংস্থাকে ১,১৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

 

অন্য এক প্রস্তাবে বেসরকারী খাতে ইউনাটেড এনার্জি লিমিটেড (সাবেক ইউনাইটেড আশুগঞ্জ পাওয়ার লিমিটেড) কর্তৃক পরিচালিত আশুগঞ্জ ৫৩ মেঃওঃ গ্যাসভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং বর্ধিত মেয়াদের জন্য ট্যারিফ অনুমোদন সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবও ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সূত্র জানায়,২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪,০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা ১০-১৪শতাংশ হারে বাড়ছে। এই চাহিদা মেটানোর জন্য সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ক্যাপটিভসহ ২৩,৫৪৮ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) এবং ইউনাইটেড আশুগঞ্জ পাওয়ার লিমিটেড -এর মধ্যে আশুগঞ্জে ৫৩ মেঃওঃ গ্যাস ভিত্তিক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৩ বছর মেয়াদে বিদ্যুৎ কেনার জন্য ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চুক্তির মেয়াদ শেষে আরও ৫ বছর বাড়ানো হয়, যার মেয়াদ ২০১৯ সালের ২১ জুন শেষ হয়েছে। স্পন্সর কোম্পানি আশুগঞ্জে ৫৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির চুক্তির মেয়াদ ৫ বৎসর বাড়ানোর আবেদন করলে ‘নো কারেন্ট,নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে ট্যারিফ নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে ৫ বছর বাড়ানো হয়। পরিবর্তিত অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আপগ্রেড করাসহ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ২০ বছর মেয়াদে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে ৬১০ কোটি টাকা।

এছাড়াও বেসরকারিখাতে মংলা, বাগেরহাটে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হবে। উদ্যোক্তা সংস্থা চিনের কনসোর্টিয়াম অব এনভিশন এনার্জি (জিয়াংশু),এসকিউ ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বাংলাদেশ এবং এনভিশন রিনিউয়াবল এনার্জি বাংলাদেশ,হংকং যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। বিওও ভিত্তিতে প্রকল্পটি থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ২০ বছরে সরকারের ব্যয় হবে ২০৩৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।