আজ শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরী
আজ শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১, ১১ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরী

এমসি কলেজে গণধর্ষণ: অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারকে বরখাস্তের নির্দেশ

সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কলেজের অধ্যক্ষ ও হোস্টেল সুপারকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কমরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

এর আগে, মঙ্গলবার সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় জারি করা রুলের রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

গণধর্ষণের ঘটনা অনুসন্ধানে যৌথ কমিটি গঠন করে হাইকোর্ট। চার সদস্যের কমিটিতে ছিলেন সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ মো. বজলুর রহমান, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মমিনুন নেসা, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল কাশেম ও সিলেটের অতিরিক্ত ডিসি (সার্বিক) শারমিন সুলতানা।

পরে এ অনুসন্ধান কমিটি হাইকোর্টে তাদের প্রতিবেদনে বলে, সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় হোস্টেল সুপার ও প্রহরীদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল। তাই প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে এমসি কলেজের অধ্যক্ষও কোনোভাবেই ওই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। গণধর্ষণের পেছনে মূলত হোস্টেলের বর্তমান তত্ত্বাবধায়করা, হোস্টেলের মূল গেটের ডে গার্ড, ৫ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ড (নৈশপ্রহরী) এবং ৭ নম্বর ব্লকের ডে গার্ড ও নাইট গার্ডের দায়িত্বে অবহেলা ছিল।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজে বেড়াতে যান এক গৃহবধূ। এ সময় ক্যাম্পাস থেকে কয়েকজন ছাত্র ওই তরুণীকে স্বামীসহ কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা স্বামীকে বেঁধে মারধর করে গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী সেদিন রাতে বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো দুই থেকে তিন জনকে আসামি করা হয়।

আসামিরা হলেন এম. সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান। আসামিদের মধ্যে তারেক ও রবিউল বহিরাগত, বাকিরা এমসি কলেজের ছাত্র। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ওই গণধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ব্যবস্থা চেয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন।