আজ মঙ্গলবার, ১৯শ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
আজ মঙ্গলবার, ১৯শ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

আনন্দের বন্যায় ভাসছে ৫০ হাজার চরবাসী

বিদ্যুতের আলোর স্বপ্নপূরণ হলো কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর চিলমারী ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষের। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় এই চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে এখন আনন্দের বন্যা বইছে।

রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে প্রায় দেড়শ বছর আগে জনবসতি গড়ে ওঠে। এ চরাঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস করে। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এসব গ্রাম পদ্মা নদীর কারণে মূল ভূ-খণ্ড থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। সন্ধ্যা নেমে আসতেই গ্রামগুলো পরিণত হয় ভুতুড়ে জনপদে। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হলেই স্থানীয় বাজারগুলোও প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের আলো এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ছিল স্বপ্নের মতো।

রোববার (৩ জানুয়ারি) উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চরাঞ্চলে বিদ্যুতের যাত্রা শুরু হয়। এরমধ্যে দেওয়া হয়েছে ২২১টি বিদ্যুৎ সংযোগ।

 

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল বলেন, চরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আজ বাস্তবে হতে চলেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় চরের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এসব এলাকায় ছোট ছোট কল কারখানা গড়ে উঠবে।

দৌলতপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) কে এম তুহিন মির্জা জানান, দুর্গম চর হওয়ায় সেখানে বিদ্যুতের লাইন স্থাপন ও মালামাল পরিবহণ খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিল। পদ্মা নদীর মাঝ দিয়ে সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে লাইন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া চিলমারী এলাকায় একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪২ কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়ে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর দুই ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৮ হাজার পরিবার বিদ্যুতের আওতায় আসবে।

দৌলতপুর আসনের সাংসদ অ্যাড. আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা বলেন, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাত্র দুই বছরের মাথায় চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ ও পদ্মা নদীর ভাগজোত পয়েন্টে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।